
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশের দাবি জানিয়েছে বিশিষ্টজনেরা।আজ সোমবার (১১ আগস্ট ২০২৫) ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র-ডব়্প এবং বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতির যৌথ
আয়োজনে অবসর ভবনে আলোচনা সভায় এ দাবি জানিয়েছে । সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেবা আফরোজা, প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর, ডব়্প। ৃশ বিক্রয় বন্ধ করা ও সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ডাঃ মোঃ সারোয়ার বারী, সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, আমি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনলায়ের বিশ্ব স্বাস্থ্য উইং-এর সিনিয়র সহকারী সচিব থাকাকালীন বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দেশ হিসেবে ২০০৩ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তি WHO FCTC স্বাক্ষর করে। ২০০৫ সালে এফসিটিসি-এর বাধ্যবাধকতায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করার সাথেও আমি সংশ্লিষ্ট ছিলাম। গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া পরিমার্জনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি গঠন করে। গত ১৩ জুলাই ২০২৫ এই উপদেষ্টা কমিটি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে তামাক কোম্পানির সাথে বসে তাদের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্তটি WHO FCTC’র Aricle 5.3 এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কেননা, Article 5.3 অনুযায়ী, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, বিধিমালা বা নীতি প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানি বা তাদের সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের প্রস্তাব, মতামত বা অংশগ্রহণ কোনটিই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. রিশাদ চৌধুরী রবিন, সহকারী অধ্যাপক, এনএসইউ গ্লোবাল হেলথ ইন্সটিটিউট বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার পেতে হবে জনস্বাস্থ্যের—তামাক কোম্পানির স্বার্থের নয়—এবং তামাক কোম্পানি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়ার জন্য কোনো পরামর্শ সভা আয়োজন করা যাবে না।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন মোহাম্মদ আলী, সচিব (অবঃ) ও পরিচালক, বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সী আলাউদ্দীন আল আজাদ, সদস্য, এনডিসি, সচিব (অবঃ), ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব (অবঃ)। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, মোঃ ইসমাইল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (অবঃ), সামসাদ বেগম, অধ্যাপক (অবঃ)। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে তামাক কোম্পানির সাথে বসে তাদের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশের দাবি জানায় তারা।
সভা শেষে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশের দাবি জানিয়ে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা। তামাকের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, পঙ্গুত্ববরণ করে বছরে প্রায় ৪ লাখ মানুষ, এবং পরোক্ষ ধূমপানে শিকার ৪২.৭ শতাংশ। তাই, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাসের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতেই হবে।
টিএইচ