ঢাকা,

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫


হবিগঞ্জে ২ সাংবাদিকের উপর হামলা!

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮:৪২, ৩১ আগস্ট ২০২৫

হবিগঞ্জে ২ সাংবাদিকের উপর হামলা!

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের চুরি হওয়া প্রায় ২০ লক্ষ টাকা সমমূল্যের সেগুন গাছের আলামতের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় দুইজন সাংবাদিক।এ নিয়ে শনিবার রাতে সাংবাদিকরা চুনারুঘাট থানা লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। 

হামলার শিকার ওই সাংবাদিকরা হলেন-দৈনিক কালবেলার উপজেলার প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক বিজয়ের প্রতিধ্বনি পত্রিকার সাংবাদিক মুজাহিদ মসি ও বাংলা টাইমস ও হবিগঞ্জের আয়না পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ত্রিপুরারি দেবনাথ। 

সাংবাদিকের উপর হামলাকারীরা হলেন- সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ও জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট নূর মোহাম্মদসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন। 

সূত্র জানায়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও তেলমাছড়ায় মাসখানেক আগে ৪টি বড় সেগুন গাছ উদ্যানের ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাচার করেন।যার কাঠের পরিমাণ প্রায় ৬০০ ফুট।যার সম্ভাব্য বাজার দাম ১৮-২০ লক্ষ টাকা। বনের লোকদের গাছ চুরির টাকার ভাগ-বাটোয়ারার নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে এদের কেউ ওই ঘটনা ও এর প্রমান সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন।ওই দুই সাংবাদিকরা সরেজমিনে এই ঘটনার আলামত সংগ্রহ ও ভিডিও করতে গেলে বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ও জুনিয়র ওয়াল্ডলাইফ স্কাউট নূর মোহাম্মদসহ আরো কয়েকজন গত শনিবার দুপুরে অতর্কিত হামলা করে। তাদের ক্যামেরা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়াসহ শারীরিকভাবে হেনস্ত করেন।তখন এই বিষয়ে সংবাদ প্রচার করলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা দায়ের হবে বলেও হুমকি দেন বনের ওই দুই কর্মকর্তা-কর্মচারী। 

সাংবাদিক মুজাহিদ মসি ও ত্রিপুরারি দেবনাথ বলেন, প্রতিনিয়ত তারা রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে গাছ  পাচার করছে।অনেক আগেও আমরা এসব নিয়ে লেখালেখি করায় আমাদের উপর ক্ষোভ রয়েছে।

গতকাল শনিবার সেগুনগাছের মুথার ভিডিও ধারণ করতে।গেলে আমাদের উপর হামলা করে।বনের গাছ পাচারের সরকারি উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।শুধু তাই নয় তারা ডিএফওকে না অবগত করে আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানি মামলাও করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন,তাদের উপর হামলার বিষয়টি আমরা না বুঝে করেছি।আমরা এটি দ্সমাধানের জন্য কিছু লোক লাগিয়েছি।সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,এটি তারা করে থাকলেও তা উঠিয়ে নেবেন। 

এ বিষয়ে জানতে আরেক অভিযুক্ত সাতছড়ি উদ্যানের 
জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট নূর মোহাম্মদকে একাধিক ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। 

হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান রতন বলেন,সাংবাদিকের উপর হামলাকারী বনের ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত বনের গাছ পাচার করছে।বনে তৈরি করেছে অপরাধের সিন্ডিকেট।বনের এক কর্মকর্তা নিয়মিত ড্রাগস সেবন করেন। যা ডোব টেস্ট করলে বেরিয়ে আসবে।আমরা সাংবাদিকের উপর হামলার দ্রুত বিচার করছি।অন্যথায় আমরা সাংবাদিকরা আন্দোলনে ডাক দেব। 

সিলেটের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগীয় কর্মকর্তা(ডিএফও)মো: আবুল কালাম বলেন,সাংবাদিকদের উপর হামলার করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা তদন্ত করে এই ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।আর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের বিষয়টা।আমাকে বলে করে নি এরা।এসব নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

চুনারুঘাট থানার ওসি মো: নূর আলম বলেন, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছেন।আমাদের পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক স্যারও এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।রবিবার আবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে এই বিষয়ে মামলা গ্রহণ করবো।

টিএইচ

News